Skip to main content

পোশাক শিল্প ও শ্রমিক এর জন্য করনীয় || Econometry

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প যাত্রা শুরু করে ষাটের দশকে। তবে সত্তরের দশকের শেষের দিকে রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে এই শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্পখাত।পোশাক শিল্প তৈরি পোশাক বা আরএমজি (Readymade Garments) নামে সমধিক পরিচিত।



ষাটের দশকের শুরু পর্যন্ত ব্যক্তি উদ্যোগে ক্রেতাদের সরবরাহকৃত এবং তাদেরই নির্দেশিত নকশা অনুযায়ী স্থানীয় দর্জিরা পোশাক তৈরি করতো।
সত্তরের দশকের শেষার্ধ থেকে মূলত একটি রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। তৈরি পোশাক শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হয় এবং এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের আয় বৃদ্ধি পায় ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে।আশির দশকের শেষার্ধে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের আয়কে অতিক্রম করে পোশাক শিল্প রফতানি আয়ে প্রথম স্থানে চলে আসে। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের (কেবলমাত্র ওভেন শার্ট) প্রথম চালানটি রপ্তানি হয় ১৯৭৮ সালে। বিগত ২৫ বছরে তৈরি পোশাক শিল্প বিস্ময়কর প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। 
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশীয় কর্মসংস্থানের প্রায় ৬৫% ও বৈদেশিক আয়ের প্রায় ৮১% অর্জিত হয় এই শিল্পের মাধ্যমে। একটি উৎপাদনমুখী শিল্প হিসেবে একে টিকিয়ে রাখতে হলে-

  • · বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে যেতে হবে এবং অর্থের পরিমাণ ওই শ্রমিকের সমগ্র জীবনের মোট আয়ের চেয়ে কোনোভাবেই কম হতে পারবে না।
  • · দুর্ঘটনার জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিদান করতে হবে।
  • · কর্মক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • · কর্মীদের বেতন বাড়াতে হবে এবং অংকটা অবশ্যই জাতীয় দারিদ্র্যসীমার চেয়ে বেশি হতে হবে।
  • · কর্মীদের বেতন বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে।

লিখেছেন : 


ফারদিন ইসলাম
https://www.facebook.com/profile.php?id=100015288489768

Comments

Popular posts from this blog

পদ্মাসেতু পরবর্তী অদৃশ্য ঝুঁকি

নদীমাতৃক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী পদ্মা। পদ্মা নদী ভারত ও ভারতের উত্তরবঙ্গে গঙ্গা এবং বাংলাদেশে পদ্মা নামে পরিচিত। এর উৎপত্তিস্থল মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহে। উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্য অতিক্রম করে গঙ্গা রাজশাহী জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি গোয়ালন্দের নিকট ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারা যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। পরে শিবচর, নড়িয়া দিয়ে চাঁদপুরে এসে পদ্মা-মেঘনা মিলিত হয়ে বরিশাল ও নোয়াখালী অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। বহুল আলোচিত পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ৭ ই ডিসেম্বর।  এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ স্থাপন হবে যার মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জ এবং শরীয়তপুর যুক্ত হবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট ষ্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির (truss bridge) ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির প্রায় ৪.৩ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে। এখন পর্যন্ত পদ্মার ওপর যেসব ...

উপকূলীয় অঞ্চলে শরণার্থী হতে পারে ৩০ মিলিয়ন মানুষ।

বাংলাদেশ প্রায়শই প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, টর্নেডো ইত্যাদি আঘাত হানে।এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং এর সাথে যুক্ত ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বিপর্যয়কর। বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ের তীব্র বিপর্যয়ের প্রভাবের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এই বিপর্যয়কর প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ফলস্বরূপ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার ন্যায়।গত 110 বছর ধরে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের দ্বারা প্রভাবিত জলবায়ু এবং ঘূর্ণিঝড়ের ফ্রিকোয়েন্সি, তীব্রতার প্রবণতা পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা 2 ° C থেকে 4 ° C এবং সমুদ্র স্তর 0.3 মিটার থেকে 1.0 মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। Source:Carbon Brief বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন একটি চূড়ান্ত বিষয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলির মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ সারা বছর মোটামুটি প্রত্যক্ষ রেডিয়েশন গ্রহণ করে এবং তুলনামূলকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা বজায় রাখে। এবার যদি আমরা বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অর্থনীতির...

জিডিপি এবং করোনা

করোনা নামক মহামারীটি লক্ষ লক্ষ লোকের জীবনযাত্রাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।বর্তমানে,অর্থনৈতিক কার্যকলাপ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং শেয়ার বাজার ভেঙে পড়েছে।চীন থেকে কাচামালের আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে রেডি-মেড গার্মেন্টস।বাংলাদেশ থেকে কেনা বড় বড় তৈরি পোশাক সংস্থাগুলি(আরএমজি) আক্ষরিক অর্থে সমস্ত ইউরোপীয় ও আমেরিকান শহড়জুড়ে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃH&M,GAP,Zara,Marks,Spencer, Primark সহ আরো অনেকে। বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেকটি অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স। মধ্যপ্রাচ্য,যুক্তরাজ্য,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের প্রায় ১০০ মিলিয়ন শ্রমিক রয়েছে। অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম এক কথায় তেলের দাম কমছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী,যখনই তেলের দাম কমে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।যার ফলে জিডিপির ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে পরিবর্তন।